
স্কুলে ভর্তি ও বার্ষিক পরীক্ষার মৌসুম শুরু হলে অনেক শিশু নতুন ক্লাসে যাওয়ার বিষয়ে উত্তেজিত থাকলেও কিছু শিশু ঠিক উল্টো আচরণ করে—স্কুলে যেতে চায় না, কান্নাকাটি করে বা নানা অজুহাত দেয়। বিশেষ করে প্রথমবার স্কুলে যাওয়া শিশুদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে বড় শিশুদেরও এ সমস্যা হতে পারে।
স্কুলভীতি বা স্কুল–রিফিউজাল আসলে একটি উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা, যার পেছনে থাকে নানা মানসিক, সামাজিক ও পরিবেশগত কারণ। স্কুলের পরিবেশ, সহপাঠী পাওয়া না পাওয়া, বুলিং, শিক্ষকের আচরণ, পড়ার চাপ, এমনকি অভিভাবকের দৃষ্টিভঙ্গিও শিশুকে স্কুলে যেতে অনীহা তৈরি করতে পারে।
অনেক শিশু স্কুলের দিনে মাথাব্যথা, পেটব্যথা, বমি ইত্যাদির অভিযোগ করে—কিন্তু ছুটির দিনে এসব উপসর্গ থাকে না। এটি সাধারণত মানসিক চাপ বা ভীতির লক্ষণ। নতুন পরিবেশে বন্ধুহীনতা, সেপারেশন অ্যাংজাইটি, অপর্যাপ্ত বিনোদন, কঠোর শাস্তি, সবার সামনে অপমান বা আগের কোনো খারাপ অভিজ্ঞতাও শিশুকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে।
এমনকি স্কুলে যাওয়ার পথে ছিনতাই, দুর্ঘটনা বা বাজে স্পর্শের মতো অভিজ্ঞতাও গভীর ভীতি তৈরি করতে পারে। স্কুল পরিবর্তন, মাধ্যম পরিবর্তন, প্রিয় শিক্ষকের বদলি বা খারাপ ফলাফলের জন্য বারবার তিরস্কারও শিশুর স্কুলভীতি বাড়ায়।
স্কুলে যাওয়ার আগে থেকে শিশুকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন। গল্প করে স্কুল সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিন।
প্রথম কিছুদিন শিশুর পাশে খুব সামান্য সময়ের জন্য হলেও থাকুন বা কাছাকাছি থাকার আশ্বাস দিন।
সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা ও বন্ধুত্ব করতে উৎসাহিত করুন।
কেন স্কুলে যেতে চাইছে না, তা জানার চেষ্টা করুন—আবেগ প্রকাশের সুযোগ দিন।
বুলিং, বাজে আচরণ বা স্পর্শকাতর কিছু ঘটলে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করুন।
শিশুকে আশ্বস্ত করুন, তার আত্মসম্মানবোধকে গুরুত্ব দিন, অযথা ভয় পেতে দেবেন না।
যত দ্রুত শিশুর স্কুলভীতির কারণ খুঁজে সমাধান করা যায়, তত দ্রুত সে স্কুলকে উপভোগ করতে শিখবে।